
আতিকুর রহমান মানিক
ঈদগাঁও এলাকা মায়ানমারের গরু পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত থেকে নিয়ে আসা গরু ঈদগাঁওর অবৈধ একটি আড়তে তোলার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।
উক্ত অনুমোদনহীন গরুর আড়তে তোলার পথে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মায়ানমার থেকে অবৈধ পথে আনা ১০টি গরু এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানসহ সিরাজুল ইসলাম (২৫) নামে এক চালককে গ্রেফতার করেছে ।
মঙ্গলবার( ২৬ মে ) ভোর রাত পৌনে ২ টার সময় কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও মেহেরঘোনা এলাকা থেকে গরু ও গাড়িসহ চালককে আটক করা হয়।
গরুবাহী ট্রাকটি ঈদগাঁও গরুর বাজার এলাকায় রমজান ও রেজাউল করিম সিকদারের অবৈধ আড়তে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত চালক সিরাজুল ইসলাম (২৫) রামু উপজেলার কাউয়ার খোপ এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় আরো দু’জন অজ্ঞাতনামা আসামী পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদারের নির্দেশনায় এসআই অচিন্ত কুমার দে’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এসময় রামু পানিরছড়া বাজারের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন পিক আপ (ভোলা-ড-১১-০৪১১) থেকে চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করে এবং অবৈধভাবে নিয়ে আসা ১০টি গরু উদ্ধার করে। এসময় দুই পাচারকারী পালিয়ে গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মিয়ানমার সীমান্ত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ঈদগাঁও গরুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে স্বীকার করেন চালক সিরাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, ঈদগাঁও গরুর বাজার এলাকায় ব্রিক ফিল্ডের পাশে অনুমোদন ছাড়া স্থাপিত গরুর আড়তে আরো শতাধিক মায়ানমারের গরু মজুদ আছে৷ জব্দকৃত গরুগুলোও ওই আড়তে নেয়া হচ্ছিল । আড়তের মালিক রমজানুল আলম ফোন রিসিভ না করায় উপরোক্ত ব্যাপারে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া চোরাচালান রোধে থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর বলেও জানান ওসি ।



পাঠকের মতামত